বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৬:১১ অপরাহ্ন
মাতৃভূমি সংবাদ
স্টাফ রিপোর্টার
স্থানীয় রাজনীতি, সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও ক্ষমতার বলয়ে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এক প্রভাবশালী নাম—আবুল হোসেন মজুমদার। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ- সম্পাদক এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাংস্কৃতিক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে পরিচিত। চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাচনী পথসভাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তার সক্রিয় উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায়।
রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত আবুল হোসেন মজুমদার দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতার কেন্দ্রের সঙ্গে সংযুক্ত ছিলেন। বিশেষ করে মুজিবুল হকের একান্ত সহকারী হিসেবে তার ভূমিকা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে।সম্পদের পাহাড় ও দুর্নীতির অভিযোগ একাধিক সূত্রের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আবুল হোসেন মজুমদার অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। রাজধানীর মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় তার নামে একাধিক ফ্ল্যাট ও স্থাবর সম্পদ থাকার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার বরাবর তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, যদিও এসব অভিযোগ বর্তমান অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট তথ্য উঠে এসেছে । পত্রিকা ও সাংবাদিক মহলে আলোচিত কিছু প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, প্রভাব বিস্তার ও জুলুমের অভিযোগ উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সহিংসতা ও বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগ। রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে এমন অভিযোগ হলো—৫ আগস্টের ছাত্র হত্যাকাণ্ডে তার জড়িত থাকার দাবি। বিভিন্ন মহল থেকে এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উঠলেও এখন পর্যন্ত কোনো বিচারিক সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসেনি। সাংস্কৃতিক লীগের আড়ালে শোষণের অভিযোগ। সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি হলো সাংস্কৃতিক অঙ্গন ঘিরে। অভিযোগ রয়েছে, সাংস্কৃতিক লীগকে ব্যবহার করে সিনেমার মহরত ও নায়িকা বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক তরুণীর জীবন ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে মানবাধিকারকর্মীদের একটি অংশ।তদন্তের দাবি জোরালো রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা এমন গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত জরুরি। অন্যথায় রাজনীতি ও সংস্কৃতির ওপর মানুষের আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।এ বিষয়ে আবুল হোসেন মজুমদারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
Leave a Reply